আগুনের পরশমণি PDF Download হুমায়ূন আহমেদ

“আগুনের পরশমণি” বইটির লেখক জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। বইটি লেখক হুমায়ূন আহমেদের একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অন্যতম উপন্যাস।

বইটি অন্যপ্রকাশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য ২০০ টাকা। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ১০৩।

উপন্যাসটির সময়কাল ১৯৭১ সালের জুন মাস। বদিউল আলম নামে এক মুক্তিযোদ্ধা তিন মাস পরে ঢাকা শহরে এসেছে গেরিলা অপারেশন এর জন্য। পাক হানাদার বাহিনী যখন শহরে হত্যা নামক তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে তখন গেরিলা যোদ্ধারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাকসেনাদের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য।

পাকসেনাদের সন্দেহের ভেতর দিয়ে যায় যেন না যেতে হয় সেজন্য গেরিলা সদস্যের প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। তেমনি ভাবে বদিউল আলম স্থান করে নিয়েছেন অপরিচিত একজন মানুষের বাড়িতে যার নাম মতিন সাহেব।

তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। একজন অপরিচিত হলেও তিনি তার বাড়িতে বদিউল আলমকে স্থান দিয়েছেন দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে। মতিন সাহেব তার বাড়িতে জায়গা দিলে বাধ সাধে তার স্ত্রী সুরমা।

বাদ সাধার অন্যতম কারণ হচ্ছে বাড়িতে তার দুইটি বড় বড় মেয়ে রাত্রি এবং অপোলা। রাত্রি থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আর অপোলা পরে অষ্টম শ্রেণীতে। দুই বোন দুই ধরনের মানসিকতা তে বেড়ে উঠেছে।

রাত্রি গল্পের নায়িকার মত সুন্দরী আর অপোলা বই পাগলি। সে একটি বই অনেকবার করে পরে যেকোনো বই সে একবার বসাই শেষ করে। প্রথমদিকে বদিউল আলমের এই বাড়িতে আসা নিয়ে অনেকেই খারাপ ব্যবহার করতে থাকে।

কিন্তু যখন জানতে পারে বদিউল আলম জন মুক্তিযোদ্ধা তখন সবাই তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে। কারণ সবাই চাই এ দেশটা স্বাধীন হোক। তারা আবার আগের মতো ছাদে গিয়ে পৃথিবীটাকে দেখুক।

উপন্যাসের আরেকটি চরিত্র রয়েছে যার নাম বিন্তি। সেই মতিন সাহেবের বাড়ির কাজের মেয়ে।মতিন সাহেবের নিঃসন্তান বোন নাসিমা মতিন সাহেবের দুই মেয়েকে নিজের মেয়ের মতোই দেখে। যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে তিনি চান তার ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে হয়ে যাক।

তার জন্য তিনি রাত্রির বিয়ের তোরজোর করতে থাকে। বদিউল আলম সেই পরিবারকে বলে যে এক সপ্তাহ থেকে সেখান থেকে চলে যাবে। কিন্তু যখন বাড়ির সবাই জানতে পারে যে বদিউল আলম একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে তখন বাড়ির সবাই চাই যে তার যতদিন খুশি সেখানে থাকতে পারে।

প্রথমদিকের মত কেউ আর তখন কোন বাধা দেয় না। সবাই তাকে পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে মনে করতে থাকে। ওদিকে রাত্রি বদিউল আলমকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলে। আর তাবদিউল আলম বুঝতে পারে।

কিন্তু বদিউল আলম বুঝতে পারলেও একজন আদর্শ দেশ প্রেমিক হিসেবে এসব দিকে পাত্তা না দিয়ে দেশের জন্য নিজেকে সঁপে দেয় এবং বিভিন্ন অপারেশন চালাতে থাকে। প্রিয় পাঠক বুঝতেই পারছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ পরিণতি টা কি হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত এই উপন্যাসের কি তা আর বলতে চাচ্ছি না। উপন্যাসটি পড়ার মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা ছাড়াও অন্যান্য পরিবার মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আশ্রয় দিয়ে যে পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করেছে তা কোন বইয়ে লিপিবদ্ধ নেই।

কিন্তু তাদের সে সময় একটি প্রাণনাশের ভয় নামক জিনিস লেগে থাকে এবং পরিবারের লোকেরা তাকে আশ্রয় দিয়ে নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করতেও দ্বিধাবোধ করেনি। কারণ সবাই চেয়েছে এই দেশটা স্বাধীন হোক। তাহলে সবাই একটি স্বাধীন দেশে বাস করতে পারবে।

বইটির কিছু উল্লেখযোগ্য উক্তি আমার মনে খুবই ধরেছে তাই না উল্লেখ করে পারলাম না। “ব্যথার সময় মা মা বলে চিৎকার করলেই ব্যথা কমে যায়, অসম্ভব রকমের বিত্তবান লোকজন স্ত্রীদের পরোয়া করে না, একবার চোখে পানি এসে গেল খুব মুশকিল। তখন যাবতীয় দুঃখের কথা মনে পড়ে যায়।”

বইটিতে মুক্তিযুদ্ধ কোন অপারেশনের কথা বলা হয়নি তবে পারিবারিক ভাবে একটি মুক্তিযুদ্ধাকে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে যা অন্যান্য বই খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

তাই হুমায়ূন আহমেদের আগুনের পরশমণি বইটি পারিবারিক দিক থেকে সহযোগিতাকারী হিসাবে একটি পরিবারকে উপরে তুলে ধরার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বইটি খুবই হৃদয়স্পর্শী। যখন পড়বেন মনে মনে হবে আপনি বদিউল আলমের চরিত্রে অভিনয় করছেন। বই পাঠের মাধ্যমে আপনার অজানাকে জানুন। হ্যাপি রিডিং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *